ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দেশের ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ Time View

দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ৩টি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রথম ধাপে যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে যাচ্ছে।

অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে (বিআইএফসি) আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা গত রবিবার শেষ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ড সভায় অনুমোদন পায়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে চারটি এনবিএফআই—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্‌ণ এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে, রমজানের আগেই, তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। সম্পদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধু মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

দেশের ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

Update Time : ০৯:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ৩টি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রথম ধাপে যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে যাচ্ছে।

অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে (বিআইএফসি) আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা গত রবিবার শেষ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ড সভায় অনুমোদন পায়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে চারটি এনবিএফআই—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্‌ণ এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে, রমজানের আগেই, তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। সম্পদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধু মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না।