ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

আগামী বছর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে যাচ্ছে! নতুন হার জানাল অর্থ বিভাগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ Time View

ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনরায় কমানো হতে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নতুন হার নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যেই অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অনুমোদন মিলে গেলে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) পাঠাবে। এরপর আইআরডি একটি পরিপত্র জারি করবে। গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) অর্থ বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাব এখনও তার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর দাবি রয়েছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় ০.৫ শতাংশ হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফা তুলনামূলক বেশি রাখা হবে, আর বড় অঙ্কের বিনিয়োগে হার কম নির্ধারণ করা হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা, এর বেশি বিনিয়োগে কম মুনাফা দেওয়া হবে।

সরকার গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ছয় মাস পর পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।

আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, মুনাফা বাড়ছে না কমছে, তা এখন বলা সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগ দেখছে। তাদের সুপারিশ এলে পরিপত্র জারি করা হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ মুনাফা রয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকলে সাধারণত সঞ্চয় চলে যায় সরকারি তহবিলে। যদি হার কমানো হয়, তবে ব্যাংকে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের ঋণের চাহিদাই কম, তাই বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ দেওয়াও সীমিত।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার নিট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪–২৫) নিট ঋণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। অক্টোবর শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আগামী বছর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে যাচ্ছে! নতুন হার জানাল অর্থ বিভাগ

Update Time : ০৩:০০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনরায় কমানো হতে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নতুন হার নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যেই অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অনুমোদন মিলে গেলে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) পাঠাবে। এরপর আইআরডি একটি পরিপত্র জারি করবে। গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) অর্থ বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাব এখনও তার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর দাবি রয়েছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় ০.৫ শতাংশ হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফা তুলনামূলক বেশি রাখা হবে, আর বড় অঙ্কের বিনিয়োগে হার কম নির্ধারণ করা হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা, এর বেশি বিনিয়োগে কম মুনাফা দেওয়া হবে।

সরকার গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ছয় মাস পর পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।

আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, মুনাফা বাড়ছে না কমছে, তা এখন বলা সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগ দেখছে। তাদের সুপারিশ এলে পরিপত্র জারি করা হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ মুনাফা রয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকলে সাধারণত সঞ্চয় চলে যায় সরকারি তহবিলে। যদি হার কমানো হয়, তবে ব্যাংকে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের ঋণের চাহিদাই কম, তাই বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ দেওয়াও সীমিত।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার নিট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪–২৫) নিট ঋণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। অক্টোবর শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকায়।