
সুস্বাদু ও রসালো ফল আনারসকে উপজীব্য করে নির্মিত এক নাটক ‘আনারসের ঢাকা সফর’। ভিন্নধর্মী এ প্রযোজনা মঞ্চে এনেছেন শিশুদের নিয়ে গড়া নাট্যদল ঢাকা লিটল অপেরা। আর দলের এই প্রথম প্রযোজনার প্রথম ও দ্বিতীয় প্রদর্শনী মঞ্চস্থ হয় মঙ্গলবার বিকেল ও সন্ধ্যায় মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে। নাটকে অভিনয় করেছেন একঝাঁক শিশু শিল্পী। আনজীর লিটন রচিত শিশুতোষ এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন মনামী ইসলাম কনক এবং সহযোগী নির্দেশক মনিরুজ্জামান রিপন।
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের একটি বাগানের আনারসের ঢাকায় আসার গল্প উঠে এসেছে ‘আনারসের ঢাকা সফর’ নাটকে। এতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আনারস ঢাকায় এসে পৌঁছায় এবং সেই আনারস বিক্রি করে কৃষক ফুলগাজি কীভাবে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে অগ্রসর হয়। কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়েই আনারসগুলো কিভাবে রসালো হয়ে ওঠে সে গল্পই উঠে এসেছে এই কাহিনীতে।
মধুপুরের বাগানে শিয়াল, কোকিল, কাক, ইঁদুর আর বিড়ালের খুনসুটি, দুষ্টুমির সঙ্গে সঙ্গে এই বাগান ছেড়ে আসার সময় দীর্ঘদিনের শেকড় ছেড়ে মানুষের কল্যাণে আনারসের বৃহত্তর আত্মত্যাগের গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে আনারসের ঢাকা সফর। পিকআপে করে আনারস ঢাকার কাওরানবাজারে এসে পৌঁছলে শহরের নাগরিক ব্যস্ততা এবং দেশ-বিদেশের বাহারি ফলের সঙ্গে ভিন্ন এক মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। কাওরানবাজারে বিক্রির পরে মানুষের পুষ্টি জোগাতে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ হয়ে যায় আনারসগুলো। মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাওয়াই আনারসের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
আনারস বিক্রির মাধ্যমে একজন সাধারণ কৃষকের শ্রম, সংগ্রাম ও আশা-ভরসার গল্পকে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সব আনারস বিক্রি হয়ে গেলেও দুটো আনারস ফিরে আসে মধুপুরেই। আনারস দুটোর এই ফিরে আসা যেন শেকড়ের কাছেই ফিরে আসা। যে শেকড়ের কাছে ফেরার উদ্দেশ্যেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। ফিরে আসা আনারসের মাথার মুকুট থেকেই আবারও নতুন বাগান গড়ে তোলেন কৃষক ফুলগাজি।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রের অভিনয় করেছেনÑ শিশু শিল্পী মাহাদী হোসেন সাদ, শোয়াইব মাহমুদ শাওন, কৃত্তিকা হাবিব শিথান, শাহানা ইসলাম সাইফা, আইয়ানা আল কাওসার, মুরসালিনা হাসান তাসনীম, রোজা ইসলাম, সামারা হোসেন মীম, সাবিকুন নাহার, নুসাইবা রহমান, হুমাইয়া রহমান, হুমায়রা আহমেদ, জুবায়ের ইবনে আনোয়ার, তাওসিফুর রহমান, মেহজাবীন রহমান, ফারহীন শুকরান আনুশা, নাহিয়ান রহমান, ইমা জাহান ও আরিশা জালাল।
নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন রাগীব নাঈম, আলোক পরিকল্পনা অম্লান বিশ্বাস, পোশাক পরিকল্পনা রোকসানা আক্তার ও দিবারতি তালুকদার, কোরিওগ্রাফি প্রান্তিক দেব এবং সংগীত পরিকল্পনা মনামী ইসলাম কনক।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও নান্দনিক চর্চার আদর্শ এক প্ল্যাটফর্ম ঢাকা লিটল অপেরা। শিশুতোষ নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে শুরু হলো এ দলের কার্যক্রম। আগামীতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত আয়োজন করবে নাটক, কবিতা আবৃত্তি, পাঠাভিনয়, নৃত্য ও বাচিকসহ নানা সৃজনশীল কার্যক্রম।
শুধু প্রশিক্ষণ নয়, এই আয়োজনগুলোর সরাসরি পরিবেশনের মাধ্যমে শিশুদের মঞ্চে উপস্থাপন করাই হবে ঢাকা লিটল অপেরার অন্যতম লক্ষ্য। সে লক্ষ্যেরই উদাহরণ ‘আনারসের ঢাকা সফর’ একটি বর্ণিল ও কল্পনাপ্রবণ নাট্যপ্রযোজনা; যা গ্রামের জীবনের সঙ্গে শহরের সংযোগকে তুলে ধরেছে। এই প্রযোজনার মধ্য দিয়ে শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার আশ্রয়ে গল্প বলার নয়া যাত্রা শুরু করল ঢাকা লিটল অপেরা।
Reporter Name 






















