ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

রান্নার আগে মুরগি ধোয়া কি আসলেই নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ Time View

রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আমরা সাধারণত সবকিছু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী। হাত ধোয়া থেকে শুরু করে ফলমূল বা সবজি—সবকিছুতেই পানির ব্যবহার আমাদের জীবাণুমুক্ত থাকার ভরসা জোগায়।

তবে মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে এই চিরচেনা অভ্যাসটি উপকারের চেয়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত আমাদের ধারণা থাকে যে, ধুয়ে নিলে মাংসের উপরিভাগের জীবাণু চলে যায়, কিন্তু বাস্তবতা এর ঠিক উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি বেকারের মতে, কাঁচা মুরগির গায়ে থাকা সালমোনেলা বা ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া পানি দিয়ে ধুলে ধ্বংস হয় না; বরং ধোয়ার সময় পানি ছিটকে সিঙ্ক, কাটিং বোর্ড, ছুরি এবং অন্যান্য বাসনকোসনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যমতে, বাজার থেকে কেনা মুরগির প্রতি ২৫টি প্যাকেটের অন্তত একটিতে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগি ধোয়ার পর সিঙ্ক পরিষ্কার করলেও অনেক সময় জীবাণু থেকে যায়, যা পরবর্তীতে অন্য খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই সহজ কথায় বলতে গেলে, রান্নার আগে মুরগি ধোয়া মানে পুরো রান্নাঘরে জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগি পরিষ্কার করার জন্য পানি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আগুনের তাপেই এই জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়।

তবে মুরগির চামড়া বা উপরিভাগের বাড়তি আর্দ্রতা দূর করতে চাইলে কিছু নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। রান্নার আগে কিচেন টাওয়েল বা টিস্যুপেপার দিয়ে মুরগির গা আলতো করে মুছে নেওয়া যেতে পারে, যাতে বাইরের ভেজাভাব না থাকে। কাজ শেষে ব্যবহৃত টিস্যুটি দ্রুত ফেলে দিতে হবে এবং অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

এছাড়া রান্নাঘরে মুরগি নিয়ে কাজ করার সময় কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মুরগি ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া, প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা এবং রান্নার পর ব্যবহৃত ছুরি ও বোর্ড ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, মুরগির মাংসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো সঠিক তাপমাত্রায় এটি রান্না করা। মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে তা জীবাণুমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রান্নার আগে পানি দিয়ে ধুয়ে ঝুঁকি না বাড়িয়ে বরং সঠিকভাবে সেদ্ধ বা রান্না করাই পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম জানলে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি পরিবারের সবার সুস্থতাও নিশ্চিত করা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

রান্নার আগে মুরগি ধোয়া কি আসলেই নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Update Time : ০৭:৩০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আমরা সাধারণত সবকিছু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী। হাত ধোয়া থেকে শুরু করে ফলমূল বা সবজি—সবকিছুতেই পানির ব্যবহার আমাদের জীবাণুমুক্ত থাকার ভরসা জোগায়।

তবে মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে এই চিরচেনা অভ্যাসটি উপকারের চেয়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত আমাদের ধারণা থাকে যে, ধুয়ে নিলে মাংসের উপরিভাগের জীবাণু চলে যায়, কিন্তু বাস্তবতা এর ঠিক উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি বেকারের মতে, কাঁচা মুরগির গায়ে থাকা সালমোনেলা বা ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া পানি দিয়ে ধুলে ধ্বংস হয় না; বরং ধোয়ার সময় পানি ছিটকে সিঙ্ক, কাটিং বোর্ড, ছুরি এবং অন্যান্য বাসনকোসনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যমতে, বাজার থেকে কেনা মুরগির প্রতি ২৫টি প্যাকেটের অন্তত একটিতে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগি ধোয়ার পর সিঙ্ক পরিষ্কার করলেও অনেক সময় জীবাণু থেকে যায়, যা পরবর্তীতে অন্য খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই সহজ কথায় বলতে গেলে, রান্নার আগে মুরগি ধোয়া মানে পুরো রান্নাঘরে জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগি পরিষ্কার করার জন্য পানি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আগুনের তাপেই এই জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়।

তবে মুরগির চামড়া বা উপরিভাগের বাড়তি আর্দ্রতা দূর করতে চাইলে কিছু নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। রান্নার আগে কিচেন টাওয়েল বা টিস্যুপেপার দিয়ে মুরগির গা আলতো করে মুছে নেওয়া যেতে পারে, যাতে বাইরের ভেজাভাব না থাকে। কাজ শেষে ব্যবহৃত টিস্যুটি দ্রুত ফেলে দিতে হবে এবং অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

এছাড়া রান্নাঘরে মুরগি নিয়ে কাজ করার সময় কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মুরগি ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া, প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা এবং রান্নার পর ব্যবহৃত ছুরি ও বোর্ড ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, মুরগির মাংসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো সঠিক তাপমাত্রায় এটি রান্না করা। মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে তা জীবাণুমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রান্নার আগে পানি দিয়ে ধুয়ে ঝুঁকি না বাড়িয়ে বরং সঠিকভাবে সেদ্ধ বা রান্না করাই পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম জানলে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি পরিবারের সবার সুস্থতাও নিশ্চিত করা সম্ভব।