ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ Time View

মাথাব্যথা অনেকের জীবনেই একটি বড় সমস্যা। কারও মাইগ্রেন, কারও সানোসাইটিস, কারও বা স্ট্রেস হেডেক – এগুলো অনেকের জীবনকেই ব্যাহত করে।

কিন্তু শুধু তীব্র ব্যথা মানেই কি মাইগ্রেন? অনেক সময় ব্যথার পেছনে আরও জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে, যা মাইগ্রেনের মতো মনে হলেও আসলে আলাদা রোগের লক্ষণ।

মাইগ্রেন হলো একটি নার্ভোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার, যা গুরুতর মাথাব্যথা, বমি-বমি ভাব, আলো ও শব্দ-সংবেদনশীলতা দিয়ে চিহ্নিত হয়। প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মাথাব্যথায় ভোগে। এর মধ্যে মাইগ্রেন শীর্ষস্থানে থাকে।

যদিও গবেষণা দেখায় মাইগ্রেন নিজে অন্য রোগ কারণে তৈরি করে না, তবে মাইগ্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত বা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো মনে হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক আর কোন কোন স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ মাইগ্রেনের মতো –

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

১. স্ট্রোক – হঠাৎ ভয়াবহ মাথাব্যথা
স্ট্রোক, বা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্লক হওয়া বা রক্তনালী ফেটে যাওয়া মাঝে মাঝে মাইগ্রেনের মতো আকস্মিক ও তীব্র ব্যথা তৈরি করতে পারে। সত্যিকারের স্ট্রোকের ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়, এবং মুখ বা হাত নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়।

তবে এটি মাইগ্রেনের মতো ধীরে ধীরে শুরু হয় না্ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মুখের একপাশ বাঁকা হয়ে যাওয়া, কথা বলায় অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণও থাকে।

২. হার্ট ডিজিজ এবং মাইগ্রেনের সম্পর্ক
মাইগ্রেন থাকলে হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের আগে অরা থাকে। অরা অর্থ চোখের সামনে আলো ঝলমল করা বা দাগ দেখতে পাওয়া। এমন ক্ষেত্রে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা একটু বেড়ে যায়।

৩. খিঁচুনি বা ফোকাসের সমস্যা
কিছু সময় মাইগ্রেনের অরার লক্ষণগুলো খিঁচুনির মতো মনে হয় – অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, বিভ্রান্তি, এমনকি কিছুক্ষণের জন্য অচেতন ভাব। গবেষকরা মনে করেন কিছু ধরণের খিঁচুনি ও মাইগ্রেনের মাঝে জিনগত সম্পর্ক থাকতে পারে।

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

৪. কান ও শ্রবণ সমস্যা
মাইগ্রেনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিরল একটি পরিস্থিতি হলো হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, যা খুব তাড়াতাড়ি কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে। যদিও এটি খুবই বিরল, মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কিছুটা বেশি দেখা যায়।

৫. মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা
মাইগ্রেন থাকলে অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যা জটিল হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে মাইগ্রেনের সঙ্গে এই মানসিক দিকগুলোর সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু এরা একে অপরকে সৃষ্টি করে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।

কখন সতর্ক হবেন?
যদি মাথাব্যথা অতি তীব্র ও হঠাৎ শুরু হয়, হাত বা মুখ নড়াচড়া না করে ও কথা এলোমেলো হয় – তাহলে একে কেবল মাইগ্রেন ভাবা ঠিক হবে না। এগুলো স্ট্রোক, খিঁচুনি বা অন্য গুরুতর নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই মাইগ্রেনের ব্যথায় সাধারণ ব্যথানাশক বা বিশ্রাম কাজ না করলে দ্রুত হেডেক স্পেশালিস্ট বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

Update Time : ১২:০০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

মাথাব্যথা অনেকের জীবনেই একটি বড় সমস্যা। কারও মাইগ্রেন, কারও সানোসাইটিস, কারও বা স্ট্রেস হেডেক – এগুলো অনেকের জীবনকেই ব্যাহত করে।

কিন্তু শুধু তীব্র ব্যথা মানেই কি মাইগ্রেন? অনেক সময় ব্যথার পেছনে আরও জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে, যা মাইগ্রেনের মতো মনে হলেও আসলে আলাদা রোগের লক্ষণ।

মাইগ্রেন হলো একটি নার্ভোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার, যা গুরুতর মাথাব্যথা, বমি-বমি ভাব, আলো ও শব্দ-সংবেদনশীলতা দিয়ে চিহ্নিত হয়। প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মাথাব্যথায় ভোগে। এর মধ্যে মাইগ্রেন শীর্ষস্থানে থাকে।

যদিও গবেষণা দেখায় মাইগ্রেন নিজে অন্য রোগ কারণে তৈরি করে না, তবে মাইগ্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত বা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো মনে হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক আর কোন কোন স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ মাইগ্রেনের মতো –

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

১. স্ট্রোক – হঠাৎ ভয়াবহ মাথাব্যথা
স্ট্রোক, বা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্লক হওয়া বা রক্তনালী ফেটে যাওয়া মাঝে মাঝে মাইগ্রেনের মতো আকস্মিক ও তীব্র ব্যথা তৈরি করতে পারে। সত্যিকারের স্ট্রোকের ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়, এবং মুখ বা হাত নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়।

তবে এটি মাইগ্রেনের মতো ধীরে ধীরে শুরু হয় না্ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মুখের একপাশ বাঁকা হয়ে যাওয়া, কথা বলায় অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণও থাকে।

২. হার্ট ডিজিজ এবং মাইগ্রেনের সম্পর্ক
মাইগ্রেন থাকলে হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের আগে অরা থাকে। অরা অর্থ চোখের সামনে আলো ঝলমল করা বা দাগ দেখতে পাওয়া। এমন ক্ষেত্রে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা একটু বেড়ে যায়।

৩. খিঁচুনি বা ফোকাসের সমস্যা
কিছু সময় মাইগ্রেনের অরার লক্ষণগুলো খিঁচুনির মতো মনে হয় – অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, বিভ্রান্তি, এমনকি কিছুক্ষণের জন্য অচেতন ভাব। গবেষকরা মনে করেন কিছু ধরণের খিঁচুনি ও মাইগ্রেনের মাঝে জিনগত সম্পর্ক থাকতে পারে।

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

৪. কান ও শ্রবণ সমস্যা
মাইগ্রেনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিরল একটি পরিস্থিতি হলো হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, যা খুব তাড়াতাড়ি কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে। যদিও এটি খুবই বিরল, মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কিছুটা বেশি দেখা যায়।

৫. মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা
মাইগ্রেন থাকলে অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যা জটিল হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে মাইগ্রেনের সঙ্গে এই মানসিক দিকগুলোর সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু এরা একে অপরকে সৃষ্টি করে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।

কখন সতর্ক হবেন?
যদি মাথাব্যথা অতি তীব্র ও হঠাৎ শুরু হয়, হাত বা মুখ নড়াচড়া না করে ও কথা এলোমেলো হয় – তাহলে একে কেবল মাইগ্রেন ভাবা ঠিক হবে না। এগুলো স্ট্রোক, খিঁচুনি বা অন্য গুরুতর নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই মাইগ্রেনের ব্যথায় সাধারণ ব্যথানাশক বা বিশ্রাম কাজ না করলে দ্রুত হেডেক স্পেশালিস্ট বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।