ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৯ খাবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩ Time View

অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে দেশে হৃদরোগের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাককে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ধমনিতে জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতাও এই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তোলে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের ৯টি খাবার নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে—

১. কোমল পানীয়
১২ আউন্স সোডা পানীয়তে প্রায় ১০ চা-চামচ চিনি থাকে। নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে ওজন বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

২. সাদা ব্রেড ও অতিরিক্ত লবণ
সাদা ব্রেডে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ রক্তনালির ক্ষতি করে ব্লক তৈরি করতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, হট ডগসহ প্রক্রিয়াজাত মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এসব মাংস খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

৪. ফাস্টফুড
ফাস্টফুডে থাকে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি, ফ্যাট ও কোলেস্টেরল—যা হৃদরোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

৫. পিৎজা
পিৎজায় ব্যবহৃত চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও লবণের কারণে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

৬. আইসক্রিম
পরিশোধিত চিনি ও ফ্যাটযুক্ত দুধ দিয়ে তৈরি আইসক্রিম অতিরিক্ত ক্যালোরি ও কোলেস্টেরল সরবরাহ করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. কলিজা, মগজ ও হাড়ের মজ্জা
এই অংশগুলোতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। হৃদরোগীদের জন্য কলিজা, মগজ কিংবা নেহারি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৮. মাছের মাথা ও ডিম
মাছের মাথা ও ডিমে এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি, যা রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়িয়ে দেয়।

৯. চিংড়ি
চিংড়িতে ক্যালরি কম হলেও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি। সাড়ে তিন আউন্স রান্না করা চিংড়িতে প্রায় ১৮৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। সচেতন হলে ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৯ খাবার

Update Time : ০৬:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে দেশে হৃদরোগের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাককে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ধমনিতে জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতাও এই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তোলে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের ৯টি খাবার নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে—

১. কোমল পানীয়
১২ আউন্স সোডা পানীয়তে প্রায় ১০ চা-চামচ চিনি থাকে। নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে ওজন বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

২. সাদা ব্রেড ও অতিরিক্ত লবণ
সাদা ব্রেডে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ রক্তনালির ক্ষতি করে ব্লক তৈরি করতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, হট ডগসহ প্রক্রিয়াজাত মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এসব মাংস খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

৪. ফাস্টফুড
ফাস্টফুডে থাকে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি, ফ্যাট ও কোলেস্টেরল—যা হৃদরোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

৫. পিৎজা
পিৎজায় ব্যবহৃত চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও লবণের কারণে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

৬. আইসক্রিম
পরিশোধিত চিনি ও ফ্যাটযুক্ত দুধ দিয়ে তৈরি আইসক্রিম অতিরিক্ত ক্যালোরি ও কোলেস্টেরল সরবরাহ করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. কলিজা, মগজ ও হাড়ের মজ্জা
এই অংশগুলোতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। হৃদরোগীদের জন্য কলিজা, মগজ কিংবা নেহারি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৮. মাছের মাথা ও ডিম
মাছের মাথা ও ডিমে এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি, যা রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়িয়ে দেয়।

৯. চিংড়ি
চিংড়িতে ক্যালরি কম হলেও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি। সাড়ে তিন আউন্স রান্না করা চিংড়িতে প্রায় ১৮৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। সচেতন হলে ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।