
শীত এলেই অস্বস্তি বাড়ছে? আশপাশের সবাই স্বাভাবিক থাকলেও আপনি একটু ঠান্ডা পড়লেই কাঁপতে শুরু করছেন? বারবার ঠান্ডা লাগা বা শরীর গরম রাখতে না পারা অনেক সময় ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাবে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন বেশি ঠান্ডা লাগে?
শরীরের বিপাকক্রিয়া (metabolism), রক্তসঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করলে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি।
যেসব ভিটামিনের অভাবে বেশি ঠান্ডা লাগে
১. ভিটামিন B12-এর ঘাটতি
ভিটামিন B12 রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই ভিটামিনের অভাবে—
রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) হয়
হাত-পা ঠান্ডা লাগে
শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে
উৎস: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, দই
২. ভিটামিন D-এর অভাব
ভিটামিন D শুধু হাড়ের জন্য নয়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত।
ঘাটতি হলে—
শরীর ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না
পেশি ব্যথা ও অবসাদ বাড়ে
উৎস: রোদে থাকা, ডিমের কুসুম, ফ্যাটি ফিশ
৩. আয়রন (লোহা) ঘাটতি
আয়রনের অভাবে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়, ফলে শরীর ঠান্ডা অনুভব করে।
লক্ষণগুলো—
হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা
মাথা ঘোরা
শ্বাস নিতে কষ্ট
উৎস: পালং শাক, কলিজা, ডাল, খেজুর
৪. ভিটামিন C-এর অভাব
ভিটামিন C রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
ঘাটতি হলে—
ঠান্ডা লাগা ও সর্দি-কাশি বাড়ে
শরীর দুর্বল থাকে
উৎস: কমলা, লেবু, আমলকী, পেয়ারা
৫. ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কের ঘাটতি
এই দুই মিনারেল শরীরের শক্তি উৎপাদন ও রক্তসঞ্চালনে ভূমিকা রাখে।
ঘাটতি হলে—
ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়
পেশিতে খিঁচুনি হয়
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সব সময় ঠান্ডা লাগলে
হাত-পা অসাড় হয়ে গেলে
অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকলে
রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের মাত্রা জানা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কীভাবে ঘাটতি পূরণ করবেন?
সুষম খাদ্য গ্রহণ
নিয়মিত রোদে থাকা
প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট
শীত বেশি লাগা সব সময় আবহাওয়ার কারণে নয়; অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের সংকেত। তাই অল্প শীতেই কাঁপতে থাকলে অবহেলা না করে ভিটামিন ও পুষ্টির দিকে নজর দিন। সময়মতো সচেতন হলে সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
Reporter Name 






















