ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

হঠাৎ ১ জানুয়ারিতেই এত মানুষের জন্মদিন কেন?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ Time View

পহেলা জানুয়ারি এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে জন্মদিন উদযাপন করতে দেখা যায়। অনেকেই বন্ধু-স্বজনদের জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দেন বছরের প্রথম দিনটিকে। এতে মনে হয়, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিকের জন্মদিন যেন ১ জানুয়ারিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সবার জন্ম কি সত্যিই বছরের প্রথম দিনে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা?
জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জন্ম তারিখ হিসেবে জানুয়ারির ১ তারিখের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা লক্ষ্য করে আসছেন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান জানান, বাস্তবে এমন নয় যে জানুয়ারির ১ তারিখেই অধিকাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। এসব জায়গায় শিক্ষার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক অভিভাবক জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে সচেতন নন।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের সময় সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধন করা হয় না—হাসপাতাল বা বাড়িতে জন্ম নেওয়া হলেও নিবন্ধনে গাফিলতি থাকে। পরে যখন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয় বা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় জন্ম তারিখ প্রয়োজন হয়, তখন অনেক সময় নির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে একটি অনুমানভিত্তিক তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়। সহজে মনে রাখার সুবিধার জন্য শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টরা একটি “কমন” তারিখ বেছে নেন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানুয়ারির ১ তারিখ হয়ে থাকে। এ কারণেই অনেকের জীবনে দেখা যায়, বাস্তব জন্মদিন এক রকম আর কাগজপত্রে আরেক রকম—অর্থাৎ দুইটি জন্মদিন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই নয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশেও একই চিত্র দেখা যায়।
তবে ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, “অনেকের জন্ম তারিখ কাগজে বানানো হলেও এটাও সত্য যে, বাংলাদেশে বাস্তব অর্থেই জানুয়ারির ১ তারিখে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যাও কম নয়।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

হঠাৎ ১ জানুয়ারিতেই এত মানুষের জন্মদিন কেন?

Update Time : ০৭:৩০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

পহেলা জানুয়ারি এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে জন্মদিন উদযাপন করতে দেখা যায়। অনেকেই বন্ধু-স্বজনদের জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দেন বছরের প্রথম দিনটিকে। এতে মনে হয়, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিকের জন্মদিন যেন ১ জানুয়ারিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সবার জন্ম কি সত্যিই বছরের প্রথম দিনে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা?
জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জন্ম তারিখ হিসেবে জানুয়ারির ১ তারিখের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা লক্ষ্য করে আসছেন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান জানান, বাস্তবে এমন নয় যে জানুয়ারির ১ তারিখেই অধিকাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। এসব জায়গায় শিক্ষার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক অভিভাবক জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে সচেতন নন।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের সময় সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধন করা হয় না—হাসপাতাল বা বাড়িতে জন্ম নেওয়া হলেও নিবন্ধনে গাফিলতি থাকে। পরে যখন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয় বা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় জন্ম তারিখ প্রয়োজন হয়, তখন অনেক সময় নির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে একটি অনুমানভিত্তিক তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়। সহজে মনে রাখার সুবিধার জন্য শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টরা একটি “কমন” তারিখ বেছে নেন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানুয়ারির ১ তারিখ হয়ে থাকে। এ কারণেই অনেকের জীবনে দেখা যায়, বাস্তব জন্মদিন এক রকম আর কাগজপত্রে আরেক রকম—অর্থাৎ দুইটি জন্মদিন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই নয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশেও একই চিত্র দেখা যায়।
তবে ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, “অনেকের জন্ম তারিখ কাগজে বানানো হলেও এটাও সত্য যে, বাংলাদেশে বাস্তব অর্থেই জানুয়ারির ১ তারিখে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যাও কম নয়।”