ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
শিরোনামঃ
নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’: বাঞ্ছারামপুরে উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি মামুনুল হকের স্ট্যাটাসে এমন এক ভয়াবহ তথ্য জানা গেল, যা শুনে সত্যিই গা শিউরে ওঠে তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী ভুল বুঝিয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদায় আবেদন মাহমুদুলের, দুসপ্তাহ আগে সরিয়ে দেওয়া হয় জামায়াত আমিরের সেই উপদেষ্টাকে কয়েল ছাড়াই ৫ মিনিটে ঘরকে মশা মুক্ত রাখার কার্যকরী উপায় তেলের ডিপোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ বিপিসির ভারত থেকে দেশে আসছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ট্রাম্প-পুতিনের ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপ, যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সব রেকর্ড ভেঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান!

সেফটি পিনে কেন ছোট ছিদ্র থাকে? জানলে অবাক হবেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ Time View

ঘরের ড্রয়ার খুললেই চোখে পড়ে একটি ছোট্ট জিনিস -সেফটি পিন। শাড়ির ভাঁজ ঠিক রাখা, পোশাক সামলানো বা হঠাৎ ছেঁড়া কাপড় বাঁচাতে এই পিনের জুড়ি নেই। কিন্তু এত পরিচিত এই জিনিসটির দিকে কখনও গভীর করে তাকিয়েছেন? খেয়াল করেছেন, সেফটি পিনে ছোট বিশেষ ছিদ্র থাকে কেন? সাধারণ নকশার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান।

এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন হোলসেল সেফটি পিনস-এর মালিক ও সিইও ল্যারি শোয়ার্টজ। যাঁর ব্যবসার পুরো ভিত্তিই এই সাধারণ অথচ প্রয়োজনীয় জিনিসটি। তাঁর মতে, একটি সেফটি পিনে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিদ্র থাকে। একটি ছিদ্র থাকে উপরের দিকে, যেখানে পিনের ধারালো অংশটি ঢুকে একটি গার্ড বা ক্লিপের ভেতরে আটকে যায়। আরেকটি ছিদ্র থাকে নিচের দিকে, যেখানে ধাতব তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় কুণ্ডলী বা স্প্রিং।

এই নকশার পেছনে কাজ করে স্থিতিস্থাপকতা ও টানের সহজ কিন্তু কার্যকর বিজ্ঞান। নিচের কুণ্ডলীটি এমনভাবে তৈরি, যাতে প্রয়োজনীয় চাপ না দেওয়া পর্যন্ত পিন নিজে থেকে খুলে না যায়। একই সঙ্গে এটি পিনকে অতিরিক্ত প্রসারিত হওয়া বা বিকৃত হয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে।

এই বুদ্ধিদীপ্ত নকশার জন্ম হয় আরও এক শতাব্দীর বেশি আগে। ১৮৪৯ সালে উদ্ভাবক ওয়াল্টার হান্ট একটি ধাতব তার নিয়ে খেলতে খেলতেই আধুনিক সেফটি পিনের স্প্রিং কাঠামো তৈরি করেন। পরে তিনি এর পেটেন্ট নেন। আজকের দিনে যন্ত্রের সাহায্যে ইস্পাতের তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় এই কুণ্ডলী, যা সেফটি পিনের কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি।

হান্ট শেষ পর্যন্ত তাঁর সেফটি পিনের পেটেন্টটি ডব্লিউ. আর. গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে মাত্র ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। অথচ এই নকশা পরবর্তীকালে যে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়, তার তুলনায় সেই মূল্য ছিল নিতান্তই নগণ্য।
পরের বার যখন হাতে একটি সেফটি পিন নেবেন, তখন শুধু প্রয়োজনের কথা নয় এর পেছনের চমৎকার বিজ্ঞান আর ইতিহাসটাও মনে পড়ে যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’: বাঞ্ছারামপুরে উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

সেফটি পিনে কেন ছোট ছিদ্র থাকে? জানলে অবাক হবেন

Update Time : ০৮:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঘরের ড্রয়ার খুললেই চোখে পড়ে একটি ছোট্ট জিনিস -সেফটি পিন। শাড়ির ভাঁজ ঠিক রাখা, পোশাক সামলানো বা হঠাৎ ছেঁড়া কাপড় বাঁচাতে এই পিনের জুড়ি নেই। কিন্তু এত পরিচিত এই জিনিসটির দিকে কখনও গভীর করে তাকিয়েছেন? খেয়াল করেছেন, সেফটি পিনে ছোট বিশেষ ছিদ্র থাকে কেন? সাধারণ নকশার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান।

এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন হোলসেল সেফটি পিনস-এর মালিক ও সিইও ল্যারি শোয়ার্টজ। যাঁর ব্যবসার পুরো ভিত্তিই এই সাধারণ অথচ প্রয়োজনীয় জিনিসটি। তাঁর মতে, একটি সেফটি পিনে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিদ্র থাকে। একটি ছিদ্র থাকে উপরের দিকে, যেখানে পিনের ধারালো অংশটি ঢুকে একটি গার্ড বা ক্লিপের ভেতরে আটকে যায়। আরেকটি ছিদ্র থাকে নিচের দিকে, যেখানে ধাতব তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় কুণ্ডলী বা স্প্রিং।

এই নকশার পেছনে কাজ করে স্থিতিস্থাপকতা ও টানের সহজ কিন্তু কার্যকর বিজ্ঞান। নিচের কুণ্ডলীটি এমনভাবে তৈরি, যাতে প্রয়োজনীয় চাপ না দেওয়া পর্যন্ত পিন নিজে থেকে খুলে না যায়। একই সঙ্গে এটি পিনকে অতিরিক্ত প্রসারিত হওয়া বা বিকৃত হয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে।

এই বুদ্ধিদীপ্ত নকশার জন্ম হয় আরও এক শতাব্দীর বেশি আগে। ১৮৪৯ সালে উদ্ভাবক ওয়াল্টার হান্ট একটি ধাতব তার নিয়ে খেলতে খেলতেই আধুনিক সেফটি পিনের স্প্রিং কাঠামো তৈরি করেন। পরে তিনি এর পেটেন্ট নেন। আজকের দিনে যন্ত্রের সাহায্যে ইস্পাতের তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় এই কুণ্ডলী, যা সেফটি পিনের কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি।

হান্ট শেষ পর্যন্ত তাঁর সেফটি পিনের পেটেন্টটি ডব্লিউ. আর. গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে মাত্র ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। অথচ এই নকশা পরবর্তীকালে যে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়, তার তুলনায় সেই মূল্য ছিল নিতান্তই নগণ্য।
পরের বার যখন হাতে একটি সেফটি পিন নেবেন, তখন শুধু প্রয়োজনের কথা নয় এর পেছনের চমৎকার বিজ্ঞান আর ইতিহাসটাও মনে পড়ে যাবে।