ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ Time View

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখ উদযাপন আরও আনন্দময় করতে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের আওতায় এই ভাতা মূল বেতনের বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। এটি বাড়িয়ে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হবে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বুধবার এটি অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হবে।

পে কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বোনাস আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। অর্থাৎ ঈদ বোনাসে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

এদিকে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হচ্ছে। নবম পে স্কেলে চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। বয়সভিত্তিক দুই ক্যাটাগরিতে এই ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে। ৪০ বছর বা কম বয়সিদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা, ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা।

পে কমিশনের আরেক সদস্য জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বয়স্কদের ভাতা কিছুটা বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবসরের পরও একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা, নবম গ্রেডে বিসিএস কর্মকর্তাদের ২২ হাজার টাকা, আর সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা রেখেছে যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জানুয়ারি থেকে মূল বেতন বা ভাতার যে কোনো একটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর

Update Time : ০৩:১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখ উদযাপন আরও আনন্দময় করতে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের আওতায় এই ভাতা মূল বেতনের বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। এটি বাড়িয়ে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হবে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বুধবার এটি অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হবে।

পে কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বোনাস আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। অর্থাৎ ঈদ বোনাসে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

এদিকে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হচ্ছে। নবম পে স্কেলে চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। বয়সভিত্তিক দুই ক্যাটাগরিতে এই ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে। ৪০ বছর বা কম বয়সিদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা, ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা।

পে কমিশনের আরেক সদস্য জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বয়স্কদের ভাতা কিছুটা বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবসরের পরও একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা, নবম গ্রেডে বিসিএস কর্মকর্তাদের ২২ হাজার টাকা, আর সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা রেখেছে যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জানুয়ারি থেকে মূল বেতন বা ভাতার যে কোনো একটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।