ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আবরার–আবু সাঈদের কাতারে ওসমান হাদি: মিজানুর রহমান আজহারি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ওসমান হাদির শাহাদাতকে স্মরণ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আজহারি লেখেন, “ওসমান হাদি এখন আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের কাতারে শামিল হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুরবানি কবুল করুন, তাঁকে শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং জান্নাতে তাঁর মেহমানি কবুল করুন।”

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার ডিএমপি-৮ আসনে সংসদীয় প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি চালালে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুলিটি তাঁর মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তবে মস্তিষ্কে গুলির কিছু অংশ রয়ে যায়—যা তাঁর অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তোলে।

পরিবারের অনুরোধে তাঁকে পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। কিন্তু সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সরকার তাঁর মৃত্যুর দিনে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ভারতীয় আধিপত্যের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদির শাহাদাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওসমান হাদির এই অকাল প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন তাঁর অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আবরার–আবু সাঈদের কাতারে ওসমান হাদি: মিজানুর রহমান আজহারি

Update Time : ০৩:০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ওসমান হাদির শাহাদাতকে স্মরণ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আজহারি লেখেন, “ওসমান হাদি এখন আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের কাতারে শামিল হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুরবানি কবুল করুন, তাঁকে শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং জান্নাতে তাঁর মেহমানি কবুল করুন।”

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার ডিএমপি-৮ আসনে সংসদীয় প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি চালালে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুলিটি তাঁর মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তবে মস্তিষ্কে গুলির কিছু অংশ রয়ে যায়—যা তাঁর অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তোলে।

পরিবারের অনুরোধে তাঁকে পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। কিন্তু সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সরকার তাঁর মৃত্যুর দিনে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ভারতীয় আধিপত্যের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদির শাহাদাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওসমান হাদির এই অকাল প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন তাঁর অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা।