ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় নেতাকে বরণ করতে আজ ‘তারেক রহমানময়’ পুরো রাজধানী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪ Time View

দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিনের নির্বাসিত জীবনের অবসান। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বিজি-২০২’ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সাথে সাথেই পুরো রাজধানী যেন এক বিশাল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর প্রতিটি সড়ক ও মোড় ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বলা যায়, রাজধানী ঢাকা আজ তারেক রহমানময়। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট (জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে) পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ পথ এখন জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করার পর বিমানবন্দরের ‘রেড জোনে’ তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের চোখে-মুখে ছিল দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতীক্ষা শেষে প্রিয় নেতাকে ফিরে পাওয়ার আবেগ ও আনন্দ।

তারেক রহমানকে বরণ করতে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ বা ৩০০ ফিট এলাকায় জড়ো হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ। সকাল থেকেই ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে আকাশ-বাতাস।
বিমানবন্দর থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত একটি বিশেষ লাল বাসে চড়ে তিনি সংবর্ধনাস্থলে রওনা হয়েছেন। ৩০০ ফিট সংলগ্ন বিশাল মঞ্চে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমানের প্রথম গন্তব্য হবে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল। সেখানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁর মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় পর মা ও ছেলের এই মিলন মুহূর্তটি নিয়ে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে এক মানবিক ও আবেগঘন পরিবেশ। হাসপাতাল থেকে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন।

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি আজ সকালে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত কাজ সেরে বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় এবং ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন মোড় ঘটিয়ে দিয়েছে। রাজপথের এই অভাবনীয় জনস্রোত প্রমাণ করছে, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি এবং তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা কতটা সুদৃঢ়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

প্রিয় নেতাকে বরণ করতে আজ ‘তারেক রহমানময়’ পুরো রাজধানী

Update Time : ০৩:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিনের নির্বাসিত জীবনের অবসান। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বিজি-২০২’ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সাথে সাথেই পুরো রাজধানী যেন এক বিশাল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর প্রতিটি সড়ক ও মোড় ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বলা যায়, রাজধানী ঢাকা আজ তারেক রহমানময়। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট (জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে) পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ পথ এখন জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করার পর বিমানবন্দরের ‘রেড জোনে’ তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের চোখে-মুখে ছিল দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতীক্ষা শেষে প্রিয় নেতাকে ফিরে পাওয়ার আবেগ ও আনন্দ।

তারেক রহমানকে বরণ করতে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ বা ৩০০ ফিট এলাকায় জড়ো হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ। সকাল থেকেই ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে আকাশ-বাতাস।
বিমানবন্দর থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত একটি বিশেষ লাল বাসে চড়ে তিনি সংবর্ধনাস্থলে রওনা হয়েছেন। ৩০০ ফিট সংলগ্ন বিশাল মঞ্চে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমানের প্রথম গন্তব্য হবে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল। সেখানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁর মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় পর মা ও ছেলের এই মিলন মুহূর্তটি নিয়ে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে এক মানবিক ও আবেগঘন পরিবেশ। হাসপাতাল থেকে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন।

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি আজ সকালে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত কাজ সেরে বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় এবং ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন মোড় ঘটিয়ে দিয়েছে। রাজপথের এই অভাবনীয় জনস্রোত প্রমাণ করছে, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি এবং তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা কতটা সুদৃঢ়।