ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

অবসরে গেলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫ Time View

বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর সংবিধান অনুযায়ী বয়সসীমা ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিচারিক জীবনের ইতি টানেন তিনি। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রায় এক বছর সাড়ে চার মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগ যখন নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন গত বছরের ১০ আগস্ট তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশের উচ্চ আদালতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিচারক, যিনি হাইকোর্ট থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেন।

তার আইনজীবী জীবনের সূচনা ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। বিচারক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে, আর ২০০৫ সালে তিনি স্থায়ী বিচারক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন এবং বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের অবসরের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তার বিদায়ের পর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার, ২৮ ডিসেম্বর তিনি নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। বিদায়ী প্রধান বিচারপতির রেখে যাওয়া সংস্কার উদ্যোগ এবং চলমান চ্যালেঞ্জগুলো নতুন নেতৃত্ব কীভাবে মোকাবিলা করেন, সেদিকেই এখন নজর আইন অঙ্গনের।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

অবসরে গেলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ

Update Time : ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর সংবিধান অনুযায়ী বয়সসীমা ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিচারিক জীবনের ইতি টানেন তিনি। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রায় এক বছর সাড়ে চার মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগ যখন নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন গত বছরের ১০ আগস্ট তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশের উচ্চ আদালতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিচারক, যিনি হাইকোর্ট থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেন।

তার আইনজীবী জীবনের সূচনা ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। বিচারক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে, আর ২০০৫ সালে তিনি স্থায়ী বিচারক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন এবং বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের অবসরের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তার বিদায়ের পর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার, ২৮ ডিসেম্বর তিনি নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। বিদায়ী প্রধান বিচারপতির রেখে যাওয়া সংস্কার উদ্যোগ এবং চলমান চ্যালেঞ্জগুলো নতুন নেতৃত্ব কীভাবে মোকাবিলা করেন, সেদিকেই এখন নজর আইন অঙ্গনের।