ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫ Time View

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পর তিনি গুলশানে অবস্থিত চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দলের করণীয়, জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠক শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সম্পর্কে দলীয়ভাবে ঘোষণা আসবে বলেও জানা গেছে।

এ সময় গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমানসহ দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে জড়ো হন।

এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তিনি কারাবরণ করেন এবং সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক জটিল রোগ দেখা দেয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান। সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন। যদিও তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা তাকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।

সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান

Update Time : ০৪:৩০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পর তিনি গুলশানে অবস্থিত চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দলের করণীয়, জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠক শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সম্পর্কে দলীয়ভাবে ঘোষণা আসবে বলেও জানা গেছে।

এ সময় গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমানসহ দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে জড়ো হন।

এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তিনি কারাবরণ করেন এবং সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক জটিল রোগ দেখা দেয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান। সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন। যদিও তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা তাকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।

সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন।