ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ Time View

আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আসন নিয়ে অনড় অবস্থানের কারণে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলন জানিয়ে দিয়েছে যে, কমপক্ষে ৮০টি আসন না দেওয়া হলে তারা জোটে থাকবে না। জামায়াত প্রথমে ৪০টি এবং পরে ৪৫টি আসন ছাড়ার পাশাপাশি কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই পীর তাতে সন্তুষ্ট হননি। খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তারা আর জোটে থাকছে না। এখন দলটির ২৬৬ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়বেন।

জোটের শরিকদের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এই জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। তারা ১৪৩টি আসনে নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা দাবি করে এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের আসনগুলোও দাবি করে বসে। জামায়াতের পক্ষে এতো বিপুল সংখ্যক আসন ছাড়া সম্ভব ছিল না, কারণ এতে জোটের অন্য শরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এই অনড় অবস্থানের কারণে বুধবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও পণ্ড হয়ে যায়।

ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেলেও মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসসহ অন্য ৯টি শরিক দল জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। জোটের অন্য নেতারা মনে করছেন, বড় শরিক চলে যাওয়ায় কিছু আসনে নতুন করে বিন্যাস প্রয়োজন হলেও তা জোটের মূল ঐক্যে ফাটল ধরাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের এই প্রস্থান ইসলামি দলগুলোর ভোটব্যাংকে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা একে অপরের মুখোমুখি হবেন, সেখানে নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

সূত্র: আমার দেশ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট!

Update Time : ০২:০০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আসন নিয়ে অনড় অবস্থানের কারণে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলন জানিয়ে দিয়েছে যে, কমপক্ষে ৮০টি আসন না দেওয়া হলে তারা জোটে থাকবে না। জামায়াত প্রথমে ৪০টি এবং পরে ৪৫টি আসন ছাড়ার পাশাপাশি কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই পীর তাতে সন্তুষ্ট হননি। খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তারা আর জোটে থাকছে না। এখন দলটির ২৬৬ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়বেন।

জোটের শরিকদের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এই জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। তারা ১৪৩টি আসনে নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা দাবি করে এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের আসনগুলোও দাবি করে বসে। জামায়াতের পক্ষে এতো বিপুল সংখ্যক আসন ছাড়া সম্ভব ছিল না, কারণ এতে জোটের অন্য শরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এই অনড় অবস্থানের কারণে বুধবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও পণ্ড হয়ে যায়।

ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেলেও মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসসহ অন্য ৯টি শরিক দল জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। জোটের অন্য নেতারা মনে করছেন, বড় শরিক চলে যাওয়ায় কিছু আসনে নতুন করে বিন্যাস প্রয়োজন হলেও তা জোটের মূল ঐক্যে ফাটল ধরাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের এই প্রস্থান ইসলামি দলগুলোর ভোটব্যাংকে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা একে অপরের মুখোমুখি হবেন, সেখানে নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

সূত্র: আমার দেশ