ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

শেখ হাসিনার বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ Time View

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে দীর্ঘ সময় খাবার সরবরাহ করে আড়াই কোটি টাকারও বেশি বকেয়া সংকটে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলের এই বিপুল পরিমাণ দেনার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিতে না চাওয়ায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এই পাওনা আদায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একটি চুক্তির অধীনে গণভবনে নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করত হোটেল অবকাশ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকারের পতন হওয়ার সময় এই খাবারের বিল বাবদ বকেয়া পড়েছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিগত সরকারের সময় নিয়মিত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও গণভবনে অধিক মানুষের যাতায়াতের কারণে খাবারের এই খরচের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। এই বকেয়া আদায়ের জন্য গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দিলেও এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

বিগত সরকারের পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনাতেও খাবার সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ। গত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান প্রশাসনের কাছেও প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সরকারের কাছে হোটেল অবকাশের মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগ এই বিল পরিশোধকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করলেও দীর্ঘ বকেয়া নিয়ে বিপাকে রয়েছে পর্যটন করপোরেশন।

বিপুল অংকের টাকা বকেয়া থাকায় হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা নতুন করে মালামাল দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাকিতে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বকেয়া আদায়ের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবারও চিঠি দেবেন।

চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৪৬০টি আইটেম সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি ফল, বেকারি সামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা ও ঘি রয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহের এই ধারা চলে আসছে। তবে বর্তমান সংকট নিরসন না হলে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হোটেল অবকাশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

শেখ হাসিনার বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি!

Update Time : ০৪:৩০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে দীর্ঘ সময় খাবার সরবরাহ করে আড়াই কোটি টাকারও বেশি বকেয়া সংকটে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলের এই বিপুল পরিমাণ দেনার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিতে না চাওয়ায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এই পাওনা আদায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একটি চুক্তির অধীনে গণভবনে নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করত হোটেল অবকাশ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকারের পতন হওয়ার সময় এই খাবারের বিল বাবদ বকেয়া পড়েছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিগত সরকারের সময় নিয়মিত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও গণভবনে অধিক মানুষের যাতায়াতের কারণে খাবারের এই খরচের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। এই বকেয়া আদায়ের জন্য গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দিলেও এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

বিগত সরকারের পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনাতেও খাবার সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ। গত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান প্রশাসনের কাছেও প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সরকারের কাছে হোটেল অবকাশের মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগ এই বিল পরিশোধকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করলেও দীর্ঘ বকেয়া নিয়ে বিপাকে রয়েছে পর্যটন করপোরেশন।

বিপুল অংকের টাকা বকেয়া থাকায় হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা নতুন করে মালামাল দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাকিতে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বকেয়া আদায়ের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবারও চিঠি দেবেন।

চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৪৬০টি আইটেম সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি ফল, বেকারি সামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা ও ঘি রয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহের এই ধারা চলে আসছে। তবে বর্তমান সংকট নিরসন না হলে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হোটেল অবকাশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।