ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

জরুরি ভিডিও বার্তা দিলেন আসিফ মাহমুদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহের মধ্যে জাতির উদ্দেশে জরুরি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, তবে এই ন্যায্য আন্দোলনকে কোনোভাবেই সহিংসতা, ভাঙচুর বা বিভাজনের দিকে নিতে দেওয়া যাবে না।

ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। পুরো বাংলাদেশ আজ শোকাহত এবং যারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের বিচার আমরাও চাই। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে—সে দায়িত্ব সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতে সারাদেশের মানুষ রাজপথে নেমেছে—এটি ন্যায়বিচারের দাবি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাজন উসকে দিতে একটি চক্রান্তমূলক মহল সক্রিয় হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আমরা দেখেছি, যা আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আসিফ মাহমুদ দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো সংবেদনশীল স্থাপনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যেন কোনো ক্ষতি না হয়—এটি নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে হওয়া প্রতিবাদ মিছিল যেন কেউ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

ওসমান হাদিকে একজন বীর হিসেবে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি যে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছিলেন—ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ও ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখতেন—সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সন্ত্রাস, ভাঙচুর বা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জরুরি ভিডিও বার্তা দিলেন আসিফ মাহমুদ

Update Time : ০৫:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহের মধ্যে জাতির উদ্দেশে জরুরি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, তবে এই ন্যায্য আন্দোলনকে কোনোভাবেই সহিংসতা, ভাঙচুর বা বিভাজনের দিকে নিতে দেওয়া যাবে না।

ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। পুরো বাংলাদেশ আজ শোকাহত এবং যারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের বিচার আমরাও চাই। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে—সে দায়িত্ব সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতে সারাদেশের মানুষ রাজপথে নেমেছে—এটি ন্যায়বিচারের দাবি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাজন উসকে দিতে একটি চক্রান্তমূলক মহল সক্রিয় হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আমরা দেখেছি, যা আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আসিফ মাহমুদ দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো সংবেদনশীল স্থাপনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যেন কোনো ক্ষতি না হয়—এটি নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে হওয়া প্রতিবাদ মিছিল যেন কেউ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

ওসমান হাদিকে একজন বীর হিসেবে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি যে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছিলেন—ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ও ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখতেন—সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সন্ত্রাস, ভাঙচুর বা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।