ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
শিশু নিহানের বাম হাতটি কেটেই ফেলতে হলো রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড ইউএনও অফিসে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হলেন লিটন দাস এনসিপির ওপর সরকার ‘সন্ত্রাসী’ লেলিয়ে দিয়েছে: জামায়াতে ইসলামী ইরাকের ৭ প্রদেশে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা লক্ষ্য ইরানসমর্থিত মিলিশিয়ারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানালেন বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার বন্ডে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার করণীয় নির্ধারণে কমিটি গঠন উত্তরাধিকারীদের আদালতে মামলা দ্য স্পন্দন লিমিটেডের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব ‘রক্তিম’ আন্দোলনে ছাত্র-জনতা, পতনের মুখে সরকার সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

শিশু নিহানের বাম হাতটি কেটেই ফেলতে হলো

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ০ Time View

পাঁচ বছর বয়সি নিহানের বাম হাতটি শেষ পর্যন্ত কেটেই ফেলে দিতে হলো। বাসার বারান্দালাগোয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দুই হাত ও পেট পুড়ে গিয়েছিল শিশুটির। গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে বাম হাত বাদ দিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছে নিহানের পরিবার।
গাজীপুর সদরের উত্তর ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়ির তৃতীয় তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন খাইরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই বিকেলে বাড়ির বারান্দাঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়। এতে খায়রুল ইসলামের বড় ছেলে মো. নিহান অগ্নিদগ্ধ হয়। ওই সময় বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আম খাচ্ছিল শিশুটি। তার দুটি হাত পুরোপুরি এবং পেটের
২২ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে তার বাম হাতটি বাহুর মাঝামাঝি থেকে কেটে ফেলা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন নিহানের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপের তত্ত্বাবধানে নিহান চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল বুধবার ডা. মো. নাসির উদ্দীন সমকালকে বলেন, নিহান এখনও সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে সার্বক্ষণিক গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর কয়েকদিন না গেলে নিশ্চিত করে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহানের বাবা খায়রুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী, আর মা নাইমা সুলতানা গৃহিণী। তারা গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তরখামের গ্রামের বাসিন্দা। ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন এ দম্পতি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই।
যোগাযোগ করা হলে নিহানের চাচা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩ বছর তাঁর ভাই খাইরুল ইসলাম ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ের ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। গত মার্চে তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ায় যান। ছুটি শেষে বাসায় এসে তাঁর বারান্দাঘেঁষে পল্লী বিদ্যুতের নতুন একটি খুঁটি এবং এতে ৩টি ট্রান্সফরমার বসানো দেখতে পান। এ সময় খাইরুল ইসলাম বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম এবং বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সুরক্ষা দেয়াল অথবা গ্লাস দিয়ে বারান্দা আটকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বারবার বলা সত্ত্বেও বাড়ির মালিক বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।

এই দুর্ঘটনার জন্য বাড়িওয়ালা এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি আবাসিক এলাকায় এই ধরনের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৩টি ট্রান্সফরমার বসাতে পারে না। এই দুর্ঘটনার দায়ও এড়াতে পারে না তারা। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান।
জানতে চাইলে প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রী মনিরা বেগম দাবি করেন, তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। আর মো. ইলিয়াস জানান, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পর খাইরুল ইসলামকে ওই ফ্ল্যাট থেকে অন্য ফ্ল্যাটে চলে যেতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি।
পল্লী বিদ্যুতের গাজীপুরের ছায়াবীথি জোনাল অফিসের এজিএম মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়ির লোকজনের দেখানো জায়গায় নিয়ম মেনেই বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

শিশু নিহানের বাম হাতটি কেটেই ফেলতে হলো

শিশু নিহানের বাম হাতটি কেটেই ফেলতে হলো

Update Time : ০৯:২৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

পাঁচ বছর বয়সি নিহানের বাম হাতটি শেষ পর্যন্ত কেটেই ফেলে দিতে হলো। বাসার বারান্দালাগোয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দুই হাত ও পেট পুড়ে গিয়েছিল শিশুটির। গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে বাম হাত বাদ দিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছে নিহানের পরিবার।
গাজীপুর সদরের উত্তর ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়ির তৃতীয় তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন খাইরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই বিকেলে বাড়ির বারান্দাঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়। এতে খায়রুল ইসলামের বড় ছেলে মো. নিহান অগ্নিদগ্ধ হয়। ওই সময় বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আম খাচ্ছিল শিশুটি। তার দুটি হাত পুরোপুরি এবং পেটের
২২ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে তার বাম হাতটি বাহুর মাঝামাঝি থেকে কেটে ফেলা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন নিহানের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপের তত্ত্বাবধানে নিহান চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল বুধবার ডা. মো. নাসির উদ্দীন সমকালকে বলেন, নিহান এখনও সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে সার্বক্ষণিক গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর কয়েকদিন না গেলে নিশ্চিত করে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহানের বাবা খায়রুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী, আর মা নাইমা সুলতানা গৃহিণী। তারা গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তরখামের গ্রামের বাসিন্দা। ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন এ দম্পতি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই।
যোগাযোগ করা হলে নিহানের চাচা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩ বছর তাঁর ভাই খাইরুল ইসলাম ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ের ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। গত মার্চে তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ায় যান। ছুটি শেষে বাসায় এসে তাঁর বারান্দাঘেঁষে পল্লী বিদ্যুতের নতুন একটি খুঁটি এবং এতে ৩টি ট্রান্সফরমার বসানো দেখতে পান। এ সময় খাইরুল ইসলাম বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম এবং বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সুরক্ষা দেয়াল অথবা গ্লাস দিয়ে বারান্দা আটকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বারবার বলা সত্ত্বেও বাড়ির মালিক বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।

এই দুর্ঘটনার জন্য বাড়িওয়ালা এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি আবাসিক এলাকায় এই ধরনের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৩টি ট্রান্সফরমার বসাতে পারে না। এই দুর্ঘটনার দায়ও এড়াতে পারে না তারা। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান।
জানতে চাইলে প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রী মনিরা বেগম দাবি করেন, তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। আর মো. ইলিয়াস জানান, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পর খাইরুল ইসলামকে ওই ফ্ল্যাট থেকে অন্য ফ্ল্যাটে চলে যেতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি।
পল্লী বিদ্যুতের গাজীপুরের ছায়াবীথি জোনাল অফিসের এজিএম মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়ির লোকজনের দেখানো জায়গায় নিয়ম মেনেই বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।