ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনামঃ
২০০ কোটি ডলারের সার্বভৌম তহবিল গঠনের প্রস্তাব আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ ২০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ হচ্ছে গাজীপুরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ ৪ মুশফিক-তাসকিনকে ফিরিয়ে সিলেট টেস্টে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখে ট্রাম্প বিরোধের জেরে বন্ধুকে হত্যা কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড ৮০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ রাজীবের প্রথম সিনেমায় নিশো-মেহজাবীন শীতের আগমনে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন ৬ উপাদান গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিকেরা, কারখানায় ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

৮০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ Time View

দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮০০ জনের বেশি পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে জাহাজ। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি, আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হওয়ায় উচ্ছ্বসিত পর্যটকেরা। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিটের বাড়তি দাম ও ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘাটে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স বহনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমভি বার আউলিয়া। এর আগে ভোর ৬টা থেকেই ঘাটে জড়ো হতে থাকেন পর্যটকেরা।

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এ সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে নিতে বাধা দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া, পার্টি আয়োজন ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডও করা যাবে না।

তিনি বলেন, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রথম দিন প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা এবং প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হয়েছে।

এদিকে প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটক পপি সাবরিন জেসি। তিনি বলেন, আগে কখনো সেন্টমার্টিন যাওয়া হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো দ্বীপে যাচ্ছেন। মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় আনন্দ ও উত্তেজনা আরও বেশি। অফিসারদের একটি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গাইড হিসেবেও তিনি দ্বীপে যাচ্ছেন।

তবে যাত্রার আনন্দের মধ্যেও ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হৃদয় বলেন, ‘এবারের মতো হয়রানি আগে কখনো হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকদের কী অবস্থা হবে? এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ৭০০ টাকা বেড়েছে। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই, কমছে না। এতে আমরা মর্মাহত।’

অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. এস এম মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ। এর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

স্কোয়াব সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটি যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট ছাড়বে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আলোচিত

২০০ কোটি ডলারের সার্বভৌম তহবিল গঠনের প্রস্তাব

৮০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

Update Time : ১০:১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮০০ জনের বেশি পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে জাহাজ। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি, আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হওয়ায় উচ্ছ্বসিত পর্যটকেরা। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিটের বাড়তি দাম ও ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘাটে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স বহনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমভি বার আউলিয়া। এর আগে ভোর ৬টা থেকেই ঘাটে জড়ো হতে থাকেন পর্যটকেরা।

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এ সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে নিতে বাধা দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া, পার্টি আয়োজন ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডও করা যাবে না।

তিনি বলেন, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রথম দিন প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা এবং প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হয়েছে।

এদিকে প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটক পপি সাবরিন জেসি। তিনি বলেন, আগে কখনো সেন্টমার্টিন যাওয়া হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো দ্বীপে যাচ্ছেন। মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় আনন্দ ও উত্তেজনা আরও বেশি। অফিসারদের একটি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গাইড হিসেবেও তিনি দ্বীপে যাচ্ছেন।

তবে যাত্রার আনন্দের মধ্যেও ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হৃদয় বলেন, ‘এবারের মতো হয়রানি আগে কখনো হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকদের কী অবস্থা হবে? এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ৭০০ টাকা বেড়েছে। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই, কমছে না। এতে আমরা মর্মাহত।’

অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. এস এম মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ। এর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

স্কোয়াব সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটি যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট ছাড়বে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।