ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনামঃ
ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী? ডব্লিউটিওর হিসাব এলডিসি থেকে উত্তরণে রপ্তানি কমতে পারে বছরে ৬৩৮ কোটি ডলার কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল কর্মকৌশল নিল বিশ্বব্যাংক যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত, দুই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে বিজয়া দশমী আজ, বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে জনস্বাস্থ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ Time View

দেশে গত পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও পাহাড়ধসে মোট দুই হাজার ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৩০ জনই মারা গেছেন বজ্রপাতে, যা মোট প্রাণহানির প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, এসব দুর্যোগের মধ্যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বন্যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগের ধরন, ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় ধরনের দুর্যোগের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে বজ্রপাতকে। গত ৬ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক হাজার ৫৩০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিকাণ্ডে। এ সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এক লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬টি। বন্যায় মারা গেছেন ১৯৭ জন, পাহাড়ধসে ৯০ জন, ঘূর্ণিঝড়ে ৫২ জন এবং ভূমিকম্পে ১০ জন।

প্রতিবেদনে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা পৌঁছানো, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ও বজ্রপাতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি, অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজার ২০ কোটি, ভূমিকম্পে ১০৮ কোটি এবং বজ্রপাতে ১০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে দেশে ৯টি বড় বন্যা হয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড় হয়েছে ছয়টি।
বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা দীর্ঘদিনের। তবে সরকারিভাবে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় মোট ১৩ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের উল্লেখ রয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বজ্রপাতের ঘটনা তুলনামূলক কম থাকে। মার্চ থেকে তা বাড়তে শুরু করে। এপ্রিলে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ে এবং মে মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। জুন ও জুলাইয়ে আবার কমতে থাকে। সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের প্রবণতা কিছুটা বাড়ে। দেশের সব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এর প্রবণতা বেশি। উত্তরাঞ্চলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশ কৃষক। মাঠে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়ায় তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলে আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে। বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর কার্যকর প্রস্তুতি নেই। কারণ, বজ্রপাতে যারা মারা যান, তারা খুবই দরিদ্র। বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায়, তার তিন-চার গুণ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। সেই হিসাবও করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য একটি প্রটোকল তৈরি করা প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আলোচিত

ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার

৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে

Update Time : ১১:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

দেশে গত পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও পাহাড়ধসে মোট দুই হাজার ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৩০ জনই মারা গেছেন বজ্রপাতে, যা মোট প্রাণহানির প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, এসব দুর্যোগের মধ্যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বন্যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগের ধরন, ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় ধরনের দুর্যোগের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে বজ্রপাতকে। গত ৬ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক হাজার ৫৩০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিকাণ্ডে। এ সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এক লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬টি। বন্যায় মারা গেছেন ১৯৭ জন, পাহাড়ধসে ৯০ জন, ঘূর্ণিঝড়ে ৫২ জন এবং ভূমিকম্পে ১০ জন।

প্রতিবেদনে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা পৌঁছানো, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ও বজ্রপাতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি, অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজার ২০ কোটি, ভূমিকম্পে ১০৮ কোটি এবং বজ্রপাতে ১০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে দেশে ৯টি বড় বন্যা হয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড় হয়েছে ছয়টি।
বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা দীর্ঘদিনের। তবে সরকারিভাবে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় মোট ১৩ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের উল্লেখ রয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বজ্রপাতের ঘটনা তুলনামূলক কম থাকে। মার্চ থেকে তা বাড়তে শুরু করে। এপ্রিলে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ে এবং মে মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। জুন ও জুলাইয়ে আবার কমতে থাকে। সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের প্রবণতা কিছুটা বাড়ে। দেশের সব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এর প্রবণতা বেশি। উত্তরাঞ্চলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশ কৃষক। মাঠে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়ায় তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলে আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে। বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর কার্যকর প্রস্তুতি নেই। কারণ, বজ্রপাতে যারা মারা যান, তারা খুবই দরিদ্র। বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায়, তার তিন-চার গুণ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। সেই হিসাবও করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য একটি প্রটোকল তৈরি করা প্রয়োজন।