ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনামঃ
ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী? ডব্লিউটিওর হিসাব এলডিসি থেকে উত্তরণে রপ্তানি কমতে পারে বছরে ৬৩৮ কোটি ডলার কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল কর্মকৌশল নিল বিশ্বব্যাংক যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত, দুই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে বিজয়া দশমী আজ, বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে জনস্বাস্থ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ Time View

ডালিম ও আপেল দুই ফলে খাদ্য আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ডালিমে রয়েছে পলিফেনল, যা হার্টের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, আপেলেও রয়েছে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল। আর এ পলিফেনল হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ডালিম খাওয়ার উপকারিতা
ডালিম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ফল প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা
আপেল মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এ ফল। তবে এসব উপকারের মাত্রা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং ফল খাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তবে ফল খাওয়াকে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডালিমের পুষ্টিগুণ 
আধা কাপ ডালিমের দানায় রয়েছে, ক্যালরি ৭২, প্রোটিন ১.৪৫ গ্রাম, মোট চর্বি ১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৩.৫ গ্রাম, মোট শর্করা ১২ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২০৫ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ২.৬ মিলিগ্রাম।

আপেলের পুষ্টিগুণ 
একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে ক্যালরি ৯৬, প্রোটিন ০.৪ গ্রাম, মোট চর্বি ০.৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৪ গ্রাম, মোট শর্করা ১৭ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৮.৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৬৯ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ৩.৪ মিলিগ্রাম।

দেখা যায়, একটি মাঝারি আপেলে ডালিমের আধা কাপ দানার তুলনায় খাদ্যআঁশ বেশি। অন্যদিকে, ডালিমে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি। আপেলে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ও মোট শর্করার পরিমাণও বেশি। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়।

কোন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি?
ডালিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব সক্রিয় উপাদান হলো পুনিক্যালাজিন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। হৃদস্বাস্থ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ডালিমে আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, যেমন এলাজিট্যানিন, ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনল, অ্যান্থোসায়ানিন ও এলাজিক অ্যাসিড। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বিবেচনা করে কোন ফল হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলের পুষ্টিগুণ, শরীরে উপাদানগুলোর কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে খাদ্যতালিকায় রাখবেন ডালিম ও আপেল
ডালিম ও আপেলের পুষ্টিগুণ পেতে প্রতিদিনের খাবারে সহজেই ফল দুটি যোগ করা যায়। যেমন ফলের রসের পরিবর্তে ডালিমের দানা ও খোসাসহ গোটা আপেল খান, সকালের ওটমিল বা চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে ডালিমের দানা কিংবা আপেলের টুকরা মিশিয়ে নিন। সালাদ বা শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে ফল দুটি যোগ করতে পারেন। বাদাম, বীজ, বাদামের মাখন অথবা কম চর্বিযুক্ত পনিরের সঙ্গেও এ দুটি ফল খেতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আলোচিত

ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার

ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী?

Update Time : ১১:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ডালিম ও আপেল দুই ফলে খাদ্য আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ডালিমে রয়েছে পলিফেনল, যা হার্টের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, আপেলেও রয়েছে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল। আর এ পলিফেনল হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ডালিম খাওয়ার উপকারিতা
ডালিম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ফল প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা
আপেল মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এ ফল। তবে এসব উপকারের মাত্রা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং ফল খাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তবে ফল খাওয়াকে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডালিমের পুষ্টিগুণ 
আধা কাপ ডালিমের দানায় রয়েছে, ক্যালরি ৭২, প্রোটিন ১.৪৫ গ্রাম, মোট চর্বি ১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৩.৫ গ্রাম, মোট শর্করা ১২ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২০৫ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ২.৬ মিলিগ্রাম।

আপেলের পুষ্টিগুণ 
একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে ক্যালরি ৯৬, প্রোটিন ০.৪ গ্রাম, মোট চর্বি ০.৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৪ গ্রাম, মোট শর্করা ১৭ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৮.৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৬৯ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ৩.৪ মিলিগ্রাম।

দেখা যায়, একটি মাঝারি আপেলে ডালিমের আধা কাপ দানার তুলনায় খাদ্যআঁশ বেশি। অন্যদিকে, ডালিমে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি। আপেলে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ও মোট শর্করার পরিমাণও বেশি। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়।

কোন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি?
ডালিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব সক্রিয় উপাদান হলো পুনিক্যালাজিন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। হৃদস্বাস্থ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ডালিমে আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, যেমন এলাজিট্যানিন, ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনল, অ্যান্থোসায়ানিন ও এলাজিক অ্যাসিড। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বিবেচনা করে কোন ফল হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলের পুষ্টিগুণ, শরীরে উপাদানগুলোর কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে খাদ্যতালিকায় রাখবেন ডালিম ও আপেল
ডালিম ও আপেলের পুষ্টিগুণ পেতে প্রতিদিনের খাবারে সহজেই ফল দুটি যোগ করা যায়। যেমন ফলের রসের পরিবর্তে ডালিমের দানা ও খোসাসহ গোটা আপেল খান, সকালের ওটমিল বা চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে ডালিমের দানা কিংবা আপেলের টুকরা মিশিয়ে নিন। সালাদ বা শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে ফল দুটি যোগ করতে পারেন। বাদাম, বীজ, বাদামের মাখন অথবা কম চর্বিযুক্ত পনিরের সঙ্গেও এ দুটি ফল খেতে পারেন।