ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনামঃ
ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী? ডব্লিউটিওর হিসাব এলডিসি থেকে উত্তরণে রপ্তানি কমতে পারে বছরে ৬৩৮ কোটি ডলার কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল কর্মকৌশল নিল বিশ্বব্যাংক যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত, দুই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে বিজয়া দশমী আজ, বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে জনস্বাস্থ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকার মধ্যেই ভিসা বাতিলের এ তথ্য সামনে এল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) অভিযানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে অধিকারকর্মীদের মতে, এসব পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাকস্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জাতিগত পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় অনেক দ্রুত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে। তিনি আরও বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করেন, জালিয়াতি করেন অথবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ান, তাদের বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

অধিকারকর্মীরা যেসব ভিসা বাতিলের ঘটনার সমালোচনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল। এ ছাড়া রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বিদেশি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ ছাড়া জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মতো বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীকেও নিশানা করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আলোচিত

ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

Update Time : ১১:১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকার মধ্যেই ভিসা বাতিলের এ তথ্য সামনে এল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) অভিযানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে অধিকারকর্মীদের মতে, এসব পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাকস্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জাতিগত পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় অনেক দ্রুত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে। তিনি আরও বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করেন, জালিয়াতি করেন অথবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ান, তাদের বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

অধিকারকর্মীরা যেসব ভিসা বাতিলের ঘটনার সমালোচনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল। এ ছাড়া রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বিদেশি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ ছাড়া জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মতো বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীকেও নিশানা করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।