ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনামঃ
ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত উপাদান লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ফ্ল্যাট জব্দ ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ কানাডায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা প্যারিসের উপকণ্ঠে গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ সংসারে সৃজনশীল বাজেট তৈরির কিছু কৌশল ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার সংসদ নির্বাচনে ভোট রক্ষায় দুর্বলতা ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে ভুল হবে না: জামায়াত আমির উপনির্বাচনে কারচুপির শঙ্কা সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ মা-বাবার পর মেয়ের মৃত্যু, শেষ পুরো পরিবার পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি সবার নজর লালমাই পাহাড়ে হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি সবার নজর লালমাই পাহাড়ে হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ Time View

আইন অমান্য করে এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কাটা চলছেই। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানই কাটছে লালমাটির পাহাড় ও টিলা। পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রিসোর্ট, বিনোদনকেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনা। পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, পাহাড়ি সড়ক সম্প্রসারণ, ইটভাটার মাটি সংগ্রহ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লালমাই পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হুমকিতে পড়ছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ময়নামতি-লালমাইবিষয়ক বইয়ের সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৫ মিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর উত্তর প্রান্তে রানী ময়নামতির প্রাসাদ এবং দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন চণ্ডীমুড়া মন্দির অবস্থিত।

সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ উপজেলায় লালমাই পাহাড় ও টিলাশ্রেণির দুই হাজার ১২১ একর ৫০ শতাংশ জমি ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে রয়েছে মাত্র ১০৩ একর ২৫ শতাংশ। বন বিভাগের ৫ নম্বর খতিয়ানে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত স্থাপনা 
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে এক হাজার ৮৫৪ একর ৯৩ শতাংশ জমি হুকুমদখল করে কুমিল্লা সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)। কোটবাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদরদপ্তর ও সংরক্ষিত এলাকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১০০ একর পাহাড়ি জমি।
১৯৮৩ সালে ৫২ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। ২০০৬ সালে ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের জন্য আরও ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পাহাড়ের দক্ষিণাংশে রয়েছে পুলিশ ফায়ার রেঞ্জ ও বাংলাদেশ স্কাউটের স্থাপনা।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নামে আট একর ২১ শতাংশ, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নামে ১২ একর ১৬ শতাংশ এবং ময়নামতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এক একর ৩২ শতাংশ পাহাড়ি জমি রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ঈদগাহের জন্যও পাহাড়ি জমি বরাদ্দ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন আগে শর্তসাপেক্ষে পাহাড় ইজারা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে শর্ত ভেঙে দখল ও মাটি কাটা শুরু হয়। বাংলাদেশ সার্ভে (বিএস) হওয়ার পর পাহাড়ের অনেক জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। এর পর পাহাড়ের জমি হাতবদল ও কেনাবেচাও বেড়েছে।

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন	সমকাল

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন সমকাল

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প 
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাহাড় কাটার বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠার সময় ৫০ একর পাহাড় কেটে প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আবাসিক ভবন এবং খেলার মাঠ তৈরি করা হয়। এ নিয়ে তখন সমালোচনা হচ্ছিল।

পরে ২০২১ সালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৩১ একর পাহাড় ও টিলাশ্রেণির জমি। সেখানে পাহাড় কেটে কয়েকটি ভবন নির্মাণকাজ চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণের কাজ তিনি দেখেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাঁর মনে হয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদন এখনও অনুমোদন পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, পাহাড়ে ভবন নির্মাণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে। তবে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমএম শরীফুল করীম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ না করতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি চলতি বছরের মে মাসে ভিসি পদে যোগদানের পর সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছি। অধিকাংশ ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই ভবন নির্মাণের শুরুতে সেখানে পাহাড় কাটা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’

কাছেই পাহাড়ে আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের চার একর জমিতে ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন মডেল কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।
সিসিএন শিক্ষাপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাহাড়ে অবস্থিত হলেও ভবন নির্মাণে পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আবাসন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও পাহাড়ি জমি কেনাবেচার প্রবণতা রয়েছে।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও হাসপাতাল
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকায় ২০২১ সালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের সময় পাহাড়ের ১ লাখ ১৪ হাজার ঘনফুট মাটি কাটার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, বড় ধর্মপুর বাজার সড়কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার মোড়ে পাহাড় কাটা জায়গার চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে। একই সড়কে ‘প্রবাসী পর্যটন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় স্টিলের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সাইনবোর্ডে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে ব্যবসায়ী মো. মহসিন কবির ভূঁইয়া বলেন, তিনি সেখানে ১২৮ শতক পাহাড় কিনেছেন। জায়গাটি সংরক্ষণের জন্য স্টিলের বেড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবেন।

এর পাশেই পাহাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে ২৬ শতক উঁচু-নিচু জমিতে ‘লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল চক্ষু হাসপাতাল’ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা গেছে। সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন শ্রমিকরা। সেখানে একটি সাইনবোর্ড আছে। কিন্তু মালিকের নাম পরিচয় নেই। শ্রমিকরা মালিকের নাম জানাতে ও মোবাইল নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ময়নামতি জাদুঘরের পশ্চিমের সড়কের দুই পাশে দেখা গেছে ‘নীলকুঞ্জ’ ও ‘কাশবন’ নামে দুটি রিসোর্ট। পাহাড় কেটে এগুলো নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে রিসোর্ট দুটি চলছে।

কাশবন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সমকালকে বলেন, প্রায় এক একর পাহাড় কিনে তিনি রিসোর্ট ও পার্টি সেন্টার করেছেন। তাঁর দাবি, ভবন নির্মাণে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। নীলকুঞ্জ-এর স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেটে ২০১৯ সালে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ নামে একটি বিনোদন পার্কের স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে হাইকোর্ট পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকার ক্ষতিসাধন করে এখানে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. রাফি সমকালকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। তাই এখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এর অদূরে জামমুড়া এলাকায় টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে ‘ডাইনোসর পার্ক’। এর বিপরীতে টিনের বেড়া দেওয়া একটি বিশাল পাহাড় কেটে সমতল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। একই এলাকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে পাহাড়ের জমির সাইনবোর্ড রয়েছে।

এ ছাড়া লালমাইয়ের দক্ষিণাংশে তৈরি করা হয়েছে ‘লালমাই লেকল্যান্ড’ বিনোদন পার্ক। বড় ধর্মপুর চৌধুরী চা প্রকল্পের পাশেও পাহাড় কাটার চিহ্ন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০০০ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ১২-এ যে কোনো নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা অবৈধ। তবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর, ছোট ধর্মপুর, রতনপুর, বিজয়পুর, সালমানপুর, সানন্দা, জামমুড়া, রাঙামুড়া, ষাইট কলোনি, খলা ও ধনমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর পাহাড়ের মাটি কাটার কারণে অনেক জায়গা সমতল হয়ে গেছে।

সালমানপুর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ২০ বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পাহাড়ের জমি নামমাত্র দামে কেনাবেচা হতো। পাহাড়ের মাটিও অবাধে বিক্রি করা হতো। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে ওঠায় জমির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে আবাসিক স্থাপনাও।

হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র লালমাই-ময়নামতি পাহাড়। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজার শাসনামলের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে। পাহাড়শ্রেণিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক টিলা এবং প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত খননকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রত্নস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ভোজ রাজার বাড়ি, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া এবং রানী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর খননে নতুন নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। তবে অবাধে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক নিদর্শন অনাবিষ্কৃত থেকে যাচ্ছে।

কমছে জীববৈচিত্র্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি
বন ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের এলাকার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বুনো লতায় আচ্ছাদিত ছিল। তখন সেখানে বন্য শূকর, মেছোবাঘ, বুনো বিড়াল, শিয়াল, হনুমান, সজারু, খরগোশ ও বাদুড় দেখা যেত। ময়ূর, বনমোরগ, ঘুঘু, পেঁচা, শকুন, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ছিল।

বন বিভাগ বলছে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, বসতি বিস্তার ও গাছপালা উজাড়ের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, অবাধে পাহাড় কাটায় ফল ও ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়টি ফল ও সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। পাহাড় রক্ষা করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বন বিভাগের অনেক জমি বেদখল
লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের অধীনে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি। এর মধ্যে পাহাড়ি অনেক জমি বেদখলে রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা তিন একর জমি নিয়ে মামলা চলছে।
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুন্নাহার সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের জরিমানা
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের অভিযানে জরিমানা করা হলেও পুরোপুরি থামছে না লালমাই পাহাড় কাটা। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড় কাটা বিরত রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এতে পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় পাহাড় কাটার কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রইজ জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি) এবং ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই দিন এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী। রিটে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লালমাই পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়), কুমিল্লার উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লালমাই পাহাড়ের বড়ধর্মপুর এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণে অনুমতি ছাড়া পাহাড়ের এক লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ ঘনফুট মাটি কাটার দায়ে সওজ বিভাগের হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রাইজ জেভি নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে পাহাড় কাটায় ২০২০ সালের মার্চে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ রহমান এন্টারপ্রাইজকে ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা, স্টারলাইন সার্ভিসেস লিমিটেডকে তিন লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা, মেসার্স আবদুর রাজ্জাককে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও জাকির এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড খোকন কনস্ট্রাকশনকে চার লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চিকিৎসক মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা প্রশাসনের অভিযান কোনো কিছুতেই পাহাড় কাটা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা প্রশাসনের ‘বড়’ অভিযান
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বিকেলে দুই ঘণ্টার অভিযানে লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন পাহাড়ের মাটি কাটায় তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ একটি খননযন্ত্র জব্দ করা হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয় বলেন, অভিযানটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে বড় অভিযান।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান সমকালকে বলেন, অধিকাংশ পাহাড় ব্যক্তিমালিকানায়। তবে আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। প্রশাসনের অভিযানের কারণে লালমাই পাহাড় কাটা অনেকটা কমে এসেছে। কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন অভিযান চালায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আলোচিত

ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত উপাদান

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি সবার নজর লালমাই পাহাড়ে হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

Update Time : ১০:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আইন অমান্য করে এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কাটা চলছেই। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানই কাটছে লালমাটির পাহাড় ও টিলা। পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রিসোর্ট, বিনোদনকেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনা। পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, পাহাড়ি সড়ক সম্প্রসারণ, ইটভাটার মাটি সংগ্রহ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লালমাই পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হুমকিতে পড়ছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ময়নামতি-লালমাইবিষয়ক বইয়ের সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৫ মিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর উত্তর প্রান্তে রানী ময়নামতির প্রাসাদ এবং দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন চণ্ডীমুড়া মন্দির অবস্থিত।

সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ উপজেলায় লালমাই পাহাড় ও টিলাশ্রেণির দুই হাজার ১২১ একর ৫০ শতাংশ জমি ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে রয়েছে মাত্র ১০৩ একর ২৫ শতাংশ। বন বিভাগের ৫ নম্বর খতিয়ানে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত স্থাপনা 
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে এক হাজার ৮৫৪ একর ৯৩ শতাংশ জমি হুকুমদখল করে কুমিল্লা সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)। কোটবাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদরদপ্তর ও সংরক্ষিত এলাকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১০০ একর পাহাড়ি জমি।
১৯৮৩ সালে ৫২ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। ২০০৬ সালে ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের জন্য আরও ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পাহাড়ের দক্ষিণাংশে রয়েছে পুলিশ ফায়ার রেঞ্জ ও বাংলাদেশ স্কাউটের স্থাপনা।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নামে আট একর ২১ শতাংশ, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নামে ১২ একর ১৬ শতাংশ এবং ময়নামতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এক একর ৩২ শতাংশ পাহাড়ি জমি রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ঈদগাহের জন্যও পাহাড়ি জমি বরাদ্দ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন আগে শর্তসাপেক্ষে পাহাড় ইজারা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে শর্ত ভেঙে দখল ও মাটি কাটা শুরু হয়। বাংলাদেশ সার্ভে (বিএস) হওয়ার পর পাহাড়ের অনেক জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। এর পর পাহাড়ের জমি হাতবদল ও কেনাবেচাও বেড়েছে।

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন	সমকাল

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন সমকাল

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প 
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাহাড় কাটার বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠার সময় ৫০ একর পাহাড় কেটে প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আবাসিক ভবন এবং খেলার মাঠ তৈরি করা হয়। এ নিয়ে তখন সমালোচনা হচ্ছিল।

পরে ২০২১ সালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৩১ একর পাহাড় ও টিলাশ্রেণির জমি। সেখানে পাহাড় কেটে কয়েকটি ভবন নির্মাণকাজ চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণের কাজ তিনি দেখেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাঁর মনে হয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদন এখনও অনুমোদন পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, পাহাড়ে ভবন নির্মাণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে। তবে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমএম শরীফুল করীম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ না করতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি চলতি বছরের মে মাসে ভিসি পদে যোগদানের পর সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছি। অধিকাংশ ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই ভবন নির্মাণের শুরুতে সেখানে পাহাড় কাটা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’

কাছেই পাহাড়ে আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের চার একর জমিতে ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন মডেল কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।
সিসিএন শিক্ষাপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাহাড়ে অবস্থিত হলেও ভবন নির্মাণে পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আবাসন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও পাহাড়ি জমি কেনাবেচার প্রবণতা রয়েছে।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও হাসপাতাল
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকায় ২০২১ সালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের সময় পাহাড়ের ১ লাখ ১৪ হাজার ঘনফুট মাটি কাটার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, বড় ধর্মপুর বাজার সড়কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার মোড়ে পাহাড় কাটা জায়গার চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে। একই সড়কে ‘প্রবাসী পর্যটন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় স্টিলের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সাইনবোর্ডে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে ব্যবসায়ী মো. মহসিন কবির ভূঁইয়া বলেন, তিনি সেখানে ১২৮ শতক পাহাড় কিনেছেন। জায়গাটি সংরক্ষণের জন্য স্টিলের বেড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবেন।

এর পাশেই পাহাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে ২৬ শতক উঁচু-নিচু জমিতে ‘লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল চক্ষু হাসপাতাল’ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা গেছে। সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন শ্রমিকরা। সেখানে একটি সাইনবোর্ড আছে। কিন্তু মালিকের নাম পরিচয় নেই। শ্রমিকরা মালিকের নাম জানাতে ও মোবাইল নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ময়নামতি জাদুঘরের পশ্চিমের সড়কের দুই পাশে দেখা গেছে ‘নীলকুঞ্জ’ ও ‘কাশবন’ নামে দুটি রিসোর্ট। পাহাড় কেটে এগুলো নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে রিসোর্ট দুটি চলছে।

কাশবন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সমকালকে বলেন, প্রায় এক একর পাহাড় কিনে তিনি রিসোর্ট ও পার্টি সেন্টার করেছেন। তাঁর দাবি, ভবন নির্মাণে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। নীলকুঞ্জ-এর স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেটে ২০১৯ সালে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ নামে একটি বিনোদন পার্কের স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে হাইকোর্ট পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকার ক্ষতিসাধন করে এখানে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. রাফি সমকালকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। তাই এখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এর অদূরে জামমুড়া এলাকায় টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে ‘ডাইনোসর পার্ক’। এর বিপরীতে টিনের বেড়া দেওয়া একটি বিশাল পাহাড় কেটে সমতল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। একই এলাকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে পাহাড়ের জমির সাইনবোর্ড রয়েছে।

এ ছাড়া লালমাইয়ের দক্ষিণাংশে তৈরি করা হয়েছে ‘লালমাই লেকল্যান্ড’ বিনোদন পার্ক। বড় ধর্মপুর চৌধুরী চা প্রকল্পের পাশেও পাহাড় কাটার চিহ্ন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০০০ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ১২-এ যে কোনো নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা অবৈধ। তবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর, ছোট ধর্মপুর, রতনপুর, বিজয়পুর, সালমানপুর, সানন্দা, জামমুড়া, রাঙামুড়া, ষাইট কলোনি, খলা ও ধনমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর পাহাড়ের মাটি কাটার কারণে অনেক জায়গা সমতল হয়ে গেছে।

সালমানপুর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ২০ বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পাহাড়ের জমি নামমাত্র দামে কেনাবেচা হতো। পাহাড়ের মাটিও অবাধে বিক্রি করা হতো। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে ওঠায় জমির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে আবাসিক স্থাপনাও।

হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র লালমাই-ময়নামতি পাহাড়। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজার শাসনামলের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে। পাহাড়শ্রেণিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক টিলা এবং প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত খননকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রত্নস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ভোজ রাজার বাড়ি, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া এবং রানী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর খননে নতুন নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। তবে অবাধে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক নিদর্শন অনাবিষ্কৃত থেকে যাচ্ছে।

কমছে জীববৈচিত্র্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি
বন ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের এলাকার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বুনো লতায় আচ্ছাদিত ছিল। তখন সেখানে বন্য শূকর, মেছোবাঘ, বুনো বিড়াল, শিয়াল, হনুমান, সজারু, খরগোশ ও বাদুড় দেখা যেত। ময়ূর, বনমোরগ, ঘুঘু, পেঁচা, শকুন, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ছিল।

বন বিভাগ বলছে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, বসতি বিস্তার ও গাছপালা উজাড়ের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, অবাধে পাহাড় কাটায় ফল ও ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়টি ফল ও সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। পাহাড় রক্ষা করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বন বিভাগের অনেক জমি বেদখল
লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের অধীনে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি। এর মধ্যে পাহাড়ি অনেক জমি বেদখলে রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা তিন একর জমি নিয়ে মামলা চলছে।
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুন্নাহার সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের জরিমানা
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের অভিযানে জরিমানা করা হলেও পুরোপুরি থামছে না লালমাই পাহাড় কাটা। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড় কাটা বিরত রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এতে পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় পাহাড় কাটার কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রইজ জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি) এবং ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই দিন এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী। রিটে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লালমাই পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়), কুমিল্লার উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লালমাই পাহাড়ের বড়ধর্মপুর এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণে অনুমতি ছাড়া পাহাড়ের এক লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ ঘনফুট মাটি কাটার দায়ে সওজ বিভাগের হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রাইজ জেভি নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে পাহাড় কাটায় ২০২০ সালের মার্চে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ রহমান এন্টারপ্রাইজকে ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা, স্টারলাইন সার্ভিসেস লিমিটেডকে তিন লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা, মেসার্স আবদুর রাজ্জাককে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও জাকির এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড খোকন কনস্ট্রাকশনকে চার লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চিকিৎসক মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা প্রশাসনের অভিযান কোনো কিছুতেই পাহাড় কাটা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা প্রশাসনের ‘বড়’ অভিযান
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বিকেলে দুই ঘণ্টার অভিযানে লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন পাহাড়ের মাটি কাটায় তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ একটি খননযন্ত্র জব্দ করা হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয় বলেন, অভিযানটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে বড় অভিযান।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান সমকালকে বলেন, অধিকাংশ পাহাড় ব্যক্তিমালিকানায়। তবে আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। প্রশাসনের অভিযানের কারণে লালমাই পাহাড় কাটা অনেকটা কমে এসেছে। কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন অভিযান চালায়।