
চীনের সাবেক নেতা মাও সে-তুংকে নিয়ে রসিকতা করে ভালোই বিপদে পড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এ স্ট্রাইকার ফরাসি, ইংরেজি ও চীনা ভাষায় ক্ষমা চেয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। এমনকি লা লিগা প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের তেবেস স্পেনে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টা সমাধান করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরও কিছু হচ্ছে না। এই রসিকতার জেরে চীনে লা লিগা সম্প্রচার বন্ধ, ধাক্কা লেগেছে এমবাপ্পের বিজ্ঞাপনের বাজারেও।
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় টিভি সিসিটিভি লা লিগা সম্প্রচার তো বন্ধ রেখেছেই, এমবাপ্পে আছেন এমন যে কোনো খেলা সম্প্রচার বন্ধ। ১৪০ কোটি মানুষের দেশে সম্প্রচার বন্ধ মানে লা লিগার জন্য একটি বিরাট ধাক্কা। যে কারণে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বিরোধ ভুলে উদ্যোগী হয়েছেন লা লিগা সভাপতি। চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের খবর তিনি দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম এক্সে, ‘আজ আমি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে এমবাপ্পের মন্তব্যের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। তাঁকে অনুরোধ জানিয়েছি, বিষয়টি সমাধা করে সামনের দিকে আগানোর পথ বের করার জন্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা কর্তৃপক্ষ, সেখানকার ফুটবল সংস্থা, সম্প্রচারক, দেশটির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারসহ নানা বিষয়ে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ। সে সঙ্গে চীনের ফুটবলের উন্নয়ন ও পথচলায় লা লিগা নানা বিষয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে। আশা করছি, একটি মাত্র ঘটনায় এই সম্পর্কের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।’
ঘটনার সূত্রপাত্র ফ্রান্সের অনুষ্ঠান ‘দ্য ব্রিজ’-এ দেওয়া এমবাপ্পের একটি সাক্ষাৎকারে। সেখানে ফরাসি এই তারকা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি মিম নিয়ে কথা বলেন। মিমটিতে তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল এমন একজনের ছবিতে, যাকে এমবাপ্পে ‘সম্ভবত চীনের কোনো স্বৈরশাসক’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায় পরিষ্কার ইঙ্গিত ছিল মাও সে-তুংয়ের প্রতি। এমবাপ্পে জানান, ছবিটি দেখে তাঁর হাসি পেয়েছিল। পরে অবশ্য সাক্ষাৎকারের ওই অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। চীনে মাও সে-তুংকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা অত্যন্ত সংবেদশীল বিষয়। তাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে চীনে বিদ্রুপ করা বলতে গেলে নিষিদ্ধই। এমবাপ্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ চীনা ফুটবলপ্রেমীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেন।
এর জের ধরে গত মঙ্গলবার ক্ষমা চান এমবাপ্পে, ‘আমার মন্তব্যটি ছিল অবিবেচনাপ্রসূত। এখন বুঝতে পারছি, এতে চীনের এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে বসবাসকারী চীনা সম্প্রদায়ের মানুষ অনেক কষ্ট পেয়েছেন।’
পরের দিন রিয়াল মাদ্রিদও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে ক্ষমা চাইলেও এরই মধ্যে তিনটি চীনা কোম্পানি এমবাপ্পের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও এমবাপ্পের জন্য চীনের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চীনের জনপ্রিয় অ্যাপ শিয়াওহংশুতে তাঁর অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ওয়েইবোতেও।
শুধু তাই নয়, বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড দিওর ও হুবলো চীনের সামাজিক মাধ্যম থেকে এমবাপ্পের করা তাদের পণ্যের প্রচারণামূলক পোস্টগুলো সরিয়ে নিয়েছে। বেইজিংয়ে অ্যাডিডাসের শোরুমে এমবাপ্পের নাম লেখা জার্সি বিক্রি হচ্ছে না। সামনের দিনগুলোতে আরও নানা দিক থেকে ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Reporter Name 


















